মুখে ব্রণের দাগ, মেচেতা কিংবা রোদে পোড়া ছোপ! পুজোর আগে ঝকঝকে, দাগহীন ত্বক পেতে অনেকেই ভরসা রাখছেন লেজ়ার ট্রিটমেন্টে। ত্বকের রং সমান করা থেকে শুরু করে অবাঞ্ছিত লোম দূর করা—বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। কিন্তু লেজ়ার করালেই কি মিলবে নিখুঁত ত্বক? নাকি ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে? চিকিৎসকদের মতে, এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন এবং ত্বকের ধরন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
ফর্টিস হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ মধুমিতা ভট্টাচার্যের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে লেজ়ার ট্রিটমেন্ট করালে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। তবে অল্প সময়ে ত্বকের জেল্লা বাড়ানোর আশায় একে কোনও জাদুকাঠি ভাবা উচিত নয়।
কী কী সমস্যায় কাজে লাগে লেজ়ার থেরাপি?
ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যাকে লক্ষ্য করে কাজ করাই লেজ়ার থেরাপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পিগমেন্টেশন, ব্রণের দাগ, অসম ত্বকের রং এবং অবাঞ্ছিত লোমের মতো সমস্যায় এই চিকিৎসা ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের দাগের জন্য একই লেজ়ার কার্যকর নয়। ত্বকের সমস্যা, দাগের গভীরতা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
লেজ়ার করালেই কি মিলবে নিখুঁত ত্বক?
লেজ়ার ট্রিটমেন্টের ফলাফল সকলের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কারও ক্ষেত্রে দাগছোপ অনেকটাই হালকা হতে পারে, আবার কারও একাধিক সেশনের প্রয়োজন হতে পারে। দাগের ধরন এবং তার কারণের উপরেও চিকিৎসার সাফল্য নির্ভর করে। তাই একবার লেজ়ার করিয়েই সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা রাখা ঠিক নয়। পুজোর আগে করালে কী কী মাথায় রাখবেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া লেজ়ার ট্রিটমেন্ট করানো উচিত নয়। ভুল পদ্ধতি বা অনুপযুক্ত চিকিৎসায় ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব কিংবা পিগমেন্টেশন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি চিকিৎসার পরে ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া এবং রোদ থেকে সুরক্ষিত থাকাও জরুরি। তাই পুজোর আগে দাগছোপ দূর করার পরিকল্পনা থাকলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে আগেভাগেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সুন্দর ত্বক মানেই এক দিনে দাগহীন হয়ে যাওয়া নয়; সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত যত্ন এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশাই সুস্থ ত্বকের চাবিকাঠি।

Leave a comment