সকালে তৈরি করা রুটি টিফিনে নিয়ে যাওয়ার পর দুপুরে খেতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায়, তা আর আগের মতো নেই। কখনও রুটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, আবার কখনও টিফিনবক্সের ভিতরে জমে থাকা বাষ্পের কারণে অতিরিক্ত নরম, ভেজা বা চটচটে হয়ে পড়ে। তবে রুটি তৈরির পাশাপাশি কীভাবে তা প্যাক করা হচ্ছে, তার উপরও অনেকটাই নির্ভর করে রুটির গঠন। তাই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে দীর্ঘক্ষণ রুটি ভালো রাখা সম্ভব।
প্রথমেই অতিরিক্ত বাষ্প বের করে নিন। তাওয়া থেকে নামানো গরম রুটি সরাসরি বন্ধ টিফিনবক্সে রাখবেন না। প্রায় ৩০-৬০ সেকেন্ড পরিষ্কার প্লেট বা শুকনো কাপড়ের উপর রাখুন। এতে রুটি থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত বাষ্প কিছুটা বেরিয়ে যেতে পারবে। তবে রুটিকে সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে ফেলার প্রয়োজন নেই।
শুকনো সুতির কাপড় ব্যবহার করুন। রুটি একটির উপর একটি রেখে সরাসরি টিফিনে রাখার বদলে পরিষ্কার ও শুকনো সুতির কাপড়ে মুড়ে রাখতে পারেন। এতে বাড়তি আর্দ্রতা শোষিত হবে এবং রুটির গায়ে জল জমার সম্ভাবনা কমবে। প্রয়োজনে টিফিনের তলায় শুকনো টিস্যুও রাখা যেতে পারে।
রুটি বেশি সময় সেঁকবেন না। অতিরিক্ত সেঁকার ফলে রুটির ভিতরের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ফলে রুটি তৈরি হওয়ার পর থেকেই শক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই রুটি ভালোভাবে সেঁকে নিন, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় তাওয়ায় রাখবেন না।
রুটি ও তরকারি আলাদা রাখুন। গরম তরকারি বা ঝোলযুক্ত সবজি থেকে বের হওয়া বাষ্প রুটিকে দ্রুত স্যাঁতসেঁতে করে দিতে পারে। একই খোপে রাখলে তরকারির ঝোলও রুটিতে লেগে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে আলাদা খোপের টিফিনবক্স ব্যবহার করুন।
আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখুন। রুটি নরম রাখার জন্য টিফিনের ভিতরে সব বাষ্প আটকে রাখা ঠিক নয়। অতিরিক্ত আর্দ্রতা রুটিকে চটচটে করে দিতে পারে। আবার খুব বেশি শুকনো পরিবেশে রাখলে রুটি শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই প্যাক করার আগে বাড়তি বাষ্প বের করে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রুটি ঠান্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার ভিতরের আর্দ্রতা ও স্টার্চের গঠনে পরিবর্তন ঘটে। তাই সময়ের সঙ্গে সদ্য তৈরি রুটির নরমভাব কিছুটা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে সঠিকভাবে প্যাক করলে রুটিকে অতিরিক্ত শক্ত বা ভেজা হওয়ার হাত থেকে অনেকটাই বাঁচানো যায়।
তাই টিফিনে রুটি রাখার সময় মনে রাখুন—বাষ্প বের করুন, শুকনো কাপড়ে মুড়ুন, বেশি সেঁকবেন না, তরকারি আলাদা রাখুন এবং আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখুন।

Leave a comment