পুজোর আর বাকি মাত্র কয়েকদিন। তার আগেই চলছে শপিংয়ের পর্ব। পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে নিজেদের সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সকলেই। এতদিন যারা সেভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় পাননি এবার জলদি উপায়ে নিজের ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলতে করে ফেলুন ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল। স্কিন কেয়ারের এই ট্রিটমেন্ট বহুদিন ধরে ট্রেন্ডিং৷ এবার আপনিও বাদ যাবেন কেন? তবে চটজলদি এই ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল করার আগে জেনে নিন, কী এই ফেসিয়াল! 

মূলত এই বিশেষ ধরনের ফেসিয়াল অর্থাৎ ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়ালে রয়েছে রক্তের যোগ। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই কোনোরকম কাঁটাছেঁড়া অথবা কোনোরকম ব্যথা যন্ত্রণার স্কোপ নেই এই ফেসিয়ালে। এই ফেসিয়াল শুধুমাত্র আপনার ত্বকের হারানো জেল্লাকে ফিরিয়ে দিতেই কাজ করবে। 

আসুন জানি কী এই ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল! কীভাবে হয় এটি এবং এইম্র উপকারিতাই বা কী? ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল নিয়ে বিস্তরে বিশেষজ্ঞ সায়ন্তন দাস একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। আধুনিক কসমেটোলজির আওতায় পড়ে এই স্কিন কেয়ার ট্রিটমেন্ট, এমনটাই জানিয়েছেন কসমেটোলিজিস্ট সায়ন্তন দাস। 

ভ্যাম্পায়ার  ফেসিয়ালকে পোশাকি ভাষায় প্লেটলেট রিজ প্লাসমা ট্রিটমেন্টও বলা হয়, জানিয়েছেন সায়ন্তন। আপনার রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে তাই দিয়েই হবে ফেসিয়াল। আর তার প্রভাবে ত্বক থাকবে টানটান এবং উজ্জ্বল। 

সায়ন্তন জানিয়েছেন, খুব সহজেই আপনার ত্বক থেকে ১০ মিলিলিটার রক্ত প্রথমে সংগ্রহ করা হবে। তারপর সেখানে থেকে সংগ্রহ করা হবে প্লাসমা। এরপর এই প্লাসমার সঙ্গে ক্লায়েন্টের ত্বক অনুসারে যে ধরনের গ্রোথ ফ্যাক্টর প্রয়োজন তা যুক্ত করে মাইক্রো নিডল (এক ধরনের খুব সূক্ষ্ম সূচ) – এর সাহায্যে পুরো উপকরণ ত্বকে ইনজেক্ট করা হবে। 

এই ফেসিয়াল আসলে কী উপকার করে? এই ফেসিয়াল করার প্রায় পরমহূর্ত থেকেই স্কিন টাইটনিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। অর্থাৎ আপনার ত্বক থাকবে টানটান। রিঙ্কেলস বা বলিরেখার প্রভাব সহজে দেখা দেবে না। ত্বক উজ্জ্বল হবে এবং আপনাকে দেখতে অনেক ঝকঝকে লাগবে, এমনটাই জানান সায়ন্তন। 

তবে কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি বলে জানান তিনি। যেমন – ভ্যাম্পায়ার ফেসিয়াল করার পর ত্বকে আপনি সানস্ক্রিন, ময়শ্চারাইজার, সেরাম – যেভাবে বলে দেওয়া হবে, সেভাবেই ব্যবহার করতে হবে অন্তত প্রথম কয়েকদিন। এ ব্যাপারে যিনি ফেসিয়াল করছেন তাঁর থেকে পরামর্শ নেওয়াই ভাল। নিজে নিজে কিছু ব্যবহার না করাই উচিত। যিনি ফেসিয়াল করছেন, তিনি আপনার ত্বকের ধরন দেখে প্রোডাক্টের ব্যাপারে পরামর্শ দেবেন। 

মাথায় রাখতে হবে, ফেসিয়ালের পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ত্বকে হাল্কা লালচে ভাব, সামান্য ব্যথা এগুলো থাকতে পারে। সাময়িকভাবে ত্বক কিছুটা শুষ্ক লাগতে পারে। সেই সঙ্গে যাঁদের ত্বক খুব সেনসিটিভ, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আবেদনও করেছেন কসমেটোলজিস্ট। কিন্তু তিনি জানান, যেহেতু ক্লায়েন্টের নিজের রক্ত থেকে প্লাসমা নিয়েই ফেসিয়াল করা হয়, তাই সাধারণত কোনও ঝুঁকি থাকে না। এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট নিরাপদ।

Leave a comment