সংক্রামক রোগ ছড়ালে শুধু আক্রান্তের চিকিৎসা করাই যথেষ্ট নয়। রোগের উৎস কোথায়, কী ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি, খাবার, জল এবং পরিবেশের উপর নজরদারি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি করা হচ্ছে ‘ওয়ান–হেলথ’ কমিটি। সম্প্রতি এ নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর।

ডেঙ্গি, নিপা, রেবিস, বার্ড ফ্লু, ব্রুসেলোসিস, অ্যানথ্রাক্স এবং লেপটোস্পাইরোসিসের মতো জ়ুনোটিক রোগের ক্ষেত্রে একাধিক দফতরের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। কোনও এলাকায় পশু-পাখির মধ্যে অস্বাভাবিক রোগ বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে কি না, খাবার বা জল থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না, পরিবেশগত কোনও কারণ রয়েছে কি না এ ধরনের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।

জেলা স্তরের কমিটিতে থাকবেন জেলাশাসক, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের উপ-অধিকর্তা, স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার এবং ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক। পাশাপাশি পুরসভা, জেলা পরিষদ এবং গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিনিধিদেরও রাখা হবে। ফলে কোনও এলাকায় সংক্রমণের খবর মিললে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, নিপার মতো জুনোটিক রোগের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস যত দ্রুত চিহ্নিত করা যায়, ততই আগে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। পশু-পাখির মধ্যে রোগের প্রকোপ রয়েছে কি না, তার সঙ্গে মানুষের সংক্রমণের কোনও যোগ আছে কি না, পরিবেশের পরিস্থিতি কেমন সবটাই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকির উপরও নজর রাখা যাবে।

মানুষ, প্রাণী এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে বিবেচনা করাই ‘ওয়ান–হেলথ’ পদ্ধতির মূল কথা। সার্স, মার্স, ইবোলা এবং করোনার মতো সংক্রামক রোগের অভিজ্ঞতার পর এই ধরনের সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। রাজ্যের জেলাগুলিতে এই কমিটি তৈরি হলে রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করেও দ্রুত পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

Leave a comment