১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। ব্রিটিশ পুলিশের গুলির সামনে জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছিলেন ৭২ বছরের বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা। তমলুক থানার কাছে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তেও তাঁর হাত থেকে জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়েনি।

শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার মৃত্যুবার্ষিকীতে সোমবার রেড রোড সংলগ্ন তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি দাবি করেন, এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ওই জায়গায় এসে মাতঙ্গিনী হাজরাকে শ্রদ্ধা জানাননি। শুভেন্দুর কথায়, “এ যাবৎকালে আগের কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুতে এখানে এসে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাননি বলেই আমার মনে হয়। রাষ্ট্রবাদী সরকার সম্মান জানালো।”

মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের পর স্বাধীনতা আন্দোলনের লড়াই আরও সংগঠিত হয় তাম্রলিপ্ত এলাকায়। বিপ্লবী সতীশচন্দ্র সামন্তের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। প্রায় ২১ মাস ধরে চলা এই সমান্তরাল সরকার পরাধীন ভারতে দীর্ঘতম সময় টিকে থাকা এমন প্রশাসনগুলির অন্যতম। পরে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে তা ভেঙে দেওয়া হয়।

এ দিনের অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মাতঙ্গিনী হাজরার অবদানের পরই তাম্রলিপ্ত সরকার গড়ে উঠেছিল। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সেটিই ছিল অন্যতম শক্তিশালী সমান্তরাল সরকার বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মাতঙ্গিনী হাজরার এই অবদানের পর তাম্রলিপ্ত সরকার গঠিত হয়। ইংরেজদের বিরুদ্ধে চলা সব থেকে শক্তিশালী সমান্তরাল সরকার। পরে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে এই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।”

স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান জানানো হবে বলেও এ দিন জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার সময়ও মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে তিনি আসেননি। শুভেন্দুর দাবি, “১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। কোনও দিন এখানে আসেননি। রাজ্যবাসীকে ভুল বার্তা দিয়েছেন।”

Leave a comment