বেআইনি মদ বোঝাই ট্রাক আটকাতে গিয়েই বিপত্তি। চালককে জিজ্ঞাসাবাদের মাঝেই ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা। আর তাতেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক পুলিশ আধিকারিকের। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলার ইন্দোর-বেতুল রোডের। মৃতের নাম দিলীপ পুরী। তিনি খাটেগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন। রবিবার রাতের এই ঘটনার পর তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সোমবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দোর-বেতুল রোড দিয়ে বেআইনি মদ পাচার হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিলেন আধিকারিকরা। সেই মতো রবিবার রাতে ওই রাস্তায় নাকা চেকিং শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে পৌঁছয় একটি ট্রাক। সেটি থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন দিলীপ পুরী। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। দ্রুত গতিতে গাড়ি বের করে দেওয়ার সময় পিছনের চাকা দিলীপের শরীরের উপর দিয়ে চলে যায়।

সহকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শুরু হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। সোমবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় ওই পুলিশ আধিকারিকের।

অন্যদিকে, ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যান চালক। পরে একটি ধাবার কাছে গাড়িটি ফেলে রেখে গা ঢাকা দেন তিনি। পুলিশ রাতেই ট্রাকটি উদ্ধার করে। সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত চালককে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ট্রাকের ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল মদ। তা পরিবহণের জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্সও ছিল না। কোথা থেকে মদ আনা হয়েছিল, কোথায় তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এই পাচারের পিছনে আর কারা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, দেওয়াসে বিষমদ কাণ্ডের পর থেকেই বেআইনি মদের কারবার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে বিষমদ পান করে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও অনেকে। কয়েকজনের দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আবগারি বিভাগের একাধিক আধিকারিককে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়। কয়েকজনকে বদলিও করা হয়েছে।

তারপর থেকেই বেআইনি মদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সেই অভিযান চলাকালীনই এবার প্রাণ গেল দিলীপ পুরীর। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পুলিশ মহলে।

Leave a comment