বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে গিয়েছিল বাঘিনিটি। গত মাসের শেষ দিক থেকে রাইমোনা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে। তার উপর নজর রাখছিলেন বন দফতরের কর্মীরা। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে বাঘিনিকে ফিরিয়ে আনা হল বক্সায়। প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযানের পর ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে তাকে ধরেন বনকর্মীরা। এরপর বিশেষ গাড়িতে চাপিয়ে গ্রিন করিডোরের মাধ্যমে বাংলায় নিয়ে আসা হয়। রাতেই বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে পৌঁছয় ‘ডুয়ার্সের রানি’। তাকে ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তিতে বন দফতরের আধিকারিকরা।
বিহার থেকে বক্সার জঙ্গলে আনা হয়েছিল এই বাঘিনিকে। কিন্তু গত মাসের শেষ দিকে আচমকাই জঙ্গল ছেড়ে অসমে চলে যায় সে। তারপর থেকেই তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা। বাঘিনিকে ফেরাতে অসম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ার পরই তাকে ধরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর রাইমোনা জঙ্গলে অভিযান শুরু করেন বনকর্মীরা। তিনটি কুনকি হাতি এবং পাঁচটি জেসিবি মেশিন নিয়ে বাঘিনিকে ধরার চেষ্টা চলে। কিন্তু সহজে ধরা দিতে চাইছিল না সে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে অভিযান। শেষ পর্যন্ত ঘুমপাড়ানি গুলি ছুড়ে তাকে অচেতন করা হয়। তারপর উদ্ধার করে বিশেষ গাড়িতে তোলা হয় বাঘিনিটিকে।
রাতেই বাংলার উদ্দেশে রওনা দেন বনকর্মীরা। অসমের কোকড়াঝাড় প্রশাসনিক এলাকার রাইমোনা বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রিন করিডোর করে তাকে বক্সায় নিয়ে আসা হয়। রাত প্রায় ১০টা নাগাদ নির্দিষ্ট এনক্লোজারে ছেড়ে দেওয়া হয় বাঘিনিকে।
বক্সায় পৌঁছনোর পর ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে আসে তার। এরপর জলের কাছে চলে যায় বাঘিনিটি। তার চলাফেরা দেখে স্বস্তি পান বনকর্মী ও চিকিৎসকরা। পছন্দের খাবারও দেওয়া হয়েছে তাকে। বন দফতর সূত্রে খবর, আপাতত সুস্থ রয়েছে বাঘিনি। তবে তার শারীরিক অবস্থা এবং গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
বাঘিনিকে ফিরিয়ে আনতে পেরে খুশি বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। তিনি বলেন, “আমাদের রানি খুব স্মার্ট। সামনে এসেও ধরা দিচ্ছিল না। অবশেষে তাকে ধরা সম্ভব হয়েছে।” দীর্ঘ চেষ্টার পর বাঘিনিকে বক্সায় ফিরিয়ে আনতে পেরে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন বনকর্মীরাও।

Leave a comment