রেপো রেট বাড়ানোর পরদিনই শেয়ার বাজারে তার প্রভাব স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ওঠানামার মধ্যে ছিল বাজার। বেলা বাড়তেই শুরু হয় পতন। দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে সেনসেক্স ১,০৩২.৯৯ পয়েন্ট নেমে যায়। ১.৪২ শতাংশ কমে সূচক নেমে আসে ৭১,৫৫০.৭৬ পয়েন্টে। এদিন ৭২,৬৬৮ পয়েন্টে শুরু হয়েছিল লেনদেন।

নিফটির ছবিটাও খুব একটা আলাদা ছিল না। দিনের শুরুতে ২২,৫৯৯.০৫ পয়েন্টে থাকা সূচক ৩৪২.২০ পয়েন্ট হারায়। পরে তা নেমে দাঁড়ায় ২২,২২৮ পয়েন্টে। বাজারে এই পতনের নেপথ্যে রেপো রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেও অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চার বছর পর বুধবার রেপো রেট বাড়িয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে নতুন রেপো রেট করা হয়েছে ৫.৫০ শতাংশ। ৭ অক্টোবর থেকেই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ঋণের সুদে। বিশেষ করে যাঁদের বাড়ি, গাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণ রয়েছে, তাঁদের মাসিক কিস্তির অঙ্ক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিন দিনের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের চিন্তা বাড়াচ্ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহণে। পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দামও বাড়ছে। এর জেরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রেপো রেট বৃদ্ধি এবং বিশ্ব বাজারের অস্থিরতা—এই দুইয়ের চাপেই বৃহস্পতিবার সেনসেক্স ও নিফটিতে বড় পতন বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।

Leave a comment