পুজোর আগে ত্বকটা একটু ঝকঝকে দেখাতে কে না চান! কিন্তু অফিসের কাজ, সংসার সামলানো আর কেনাকাটার চাপে পার্লারে যাওয়ার সময় বার করাই কঠিন। অথচ পুজোর দিনগুলিতে সাজগোজের সঙ্গে মুখেও চাই সতেজ ভাব। এই সময় বাড়িতেই থাকা কয়েকটি উপকরণ কাজে লাগাতে পারেন। শসা, আলু, টমেটো, পেঁপে আর বরফ দিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার চল বহুদিনের। তবে সব ঘরোয়া টোটকা যে সবার ত্বকে সমান ভাবে কাজ করবে, তা নয়।

সারাদিনের ব্যস্ততায় মুখটা ক্লান্ত দেখাচ্ছে? শসার রস দিয়ে তৈরি বরফ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। একটি তাজা শসা ভালো করে ধুয়ে পেস্ট করে নিন। তার পর ছেঁকে রস বের করে আইস কিউব ট্রেতে ঢেলে ফ্রিজে রাখুন। বরফ জমে গেলে পরিষ্কার নরম কাপড়ে মুড়ে অল্প সময়ের জন্য মুখে আলতো করে ছোঁয়াতে পারেন। ঠান্ডার স্পর্শে মুখের ফোলা ভাব সাময়িক ভাবে কমতে পারে। তবে সরাসরি বরফ ত্বকে ঘষবেন না। সংবেদনশীল ত্বক হলে এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলুন।

চোখের নিচে কালচে দাগ থাকলে অনেকেই আলুর রস ব্যবহারের কথা বলেন। একটি আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে পেস্ট করে নিন। তার পর ছেঁকে রস বের করুন। তবে আলুর রস লাগালে ডার্ক সার্কল পুরোপুরি চলে যায়, এমন প্রমাণ নেই। চোখের চারপাশের ত্বক খুব নরম। তাই সেখানে বরফ ঘষা কিংবা নতুন কোনও উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

মুখে তেলতেলে ভাব থাকলে সাজগোজের পরেও অস্বস্তি হতে পারে। এই সমস্যা সামলাতে অনেকে টমেটোর রস ব্যবহার করেন। তবে টমেটোর রস দিয়ে তৈরি বরফ লাগালে রোমকূপ ছোট হয়ে যায় বা কালো দাগ দূর হয়, এমন নিশ্চয়তা নেই। টমেটোর রস থেকে ত্বকে জ্বালা হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকুন।

ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহার নতুন নয়। পাকা পেঁপেতেও রয়েছে প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম। তবে এই উপাদানগুলি বরফের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগালেই দাগছোপ বা রোদে পোড়া ভাব দূর হবে, এমনটা বলা যায় না। উল্টে সংবেদনশীল ত্বকে অস্বস্তি হতে পারে।

পুজোর আগে ত্বকের যত্নে নিয়মিত ঘুম, পর্যাপ্ত জল পান, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। নতুন কোনও উপাদান মুখে লাগানোর আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নিন। জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন। দীর্ঘদিনের ব্রণ বা কালো দাগের সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

Leave a comment