রাজ্যে সরকার বদলের পর ১০০ দিনের কাজের বকেয়া মেটানো নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে। তবে আবেদন করলেই মিলবে না টাকা। কারা প্রকৃত পাওনাদার, তা নিশ্চিত করতে আগে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখা হবে। কাজের হিসাব থেকে শুরু করে খরচের খতিয়ান, সব কিছু যাচাইয়ের পরেই চূড়ান্ত হবে প্রাপকদের তালিকা। এই মর্মে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।

গত ২৯ অক্টোবর এই বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে দফতর। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই বকেয়ার হিসাব পরীক্ষা করা হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ এবং তার আগের সময়ের বকেয়া এই যাচাইয়ের আওতায় থাকছে। কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে নাম থাকলেই যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি টাকা পাবেন, এমনটা নয়। বাস্তবে কাজ হয়েছিল কি না, কাজের খরচের হিসাব ঠিক রয়েছে কি না, বরাদ্দ অর্থ অন্য কোনও খাতে খরচ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে হবে।

যাচাইয়ের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে তিনটি স্তরে। প্রথমে ব্লক, তার পর জেলা এবং সবশেষে রাজ্য স্তরে পরীক্ষা হবে নথি। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ব্লক স্তরের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা স্তরে অনুসন্ধান করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। রাজ্য স্তরে যাচাই ও চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়ার হিসাব কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

এই প্রক্রিয়ায় ভুয়ো দাবির পাশাপাশি প্রকৃত প্রাপকদের পাওনা নিয়েও যাতে কোনও অসঙ্গতি না থাকে, সেই বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাচাই শেষ হলে আগামী বছরের গোড়ায় জব কার্ডধারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা পৌঁছতে পারে।

উল্লেখ্য, ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বারবার অভিযোগ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৩০ লক্ষ জব কার্ডধারীর মজুরি মিটিয়েছে তৎকালীন সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর এ বার সেই বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

Leave a comment