অন্ধ্রপ্রদেশে অর্ণবের আঘাতের এক সপ্তাহও কাটেনি। তার মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নতুন ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। শক্তি বাড়িয়ে সেটি এখন তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে মুরাসু। ল্যান্ডফলের সম্ভাব্য সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টে পর্যন্ত। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকাকে সম্ভাব্য ল্যান্ডফল অঞ্চল হিসেবে ধরা হচ্ছে। উপকূলে পৌঁছনোর আগে ঝড়ের শক্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। অন্ধ্রের সঙ্গে ওড়িশা ও তামিলনাড়ুর উপকূলেও সতর্কতা জারি হয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়েছিল অর্ণব। সেই ঝড়ের প্রভাব সামলাতে না সামলাতেই ফের বিপর্যয়ের আশঙ্কা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগেভাগেই ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। তামিলনাড়ু থেকে এনডিআরএফের চতুর্থ ব্যাটেলিয়নের তিনটি দল পাঠানো হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নামানো হবে তাদের। দমকলকেও তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখা হচ্ছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ। তাঁর নেতৃত্বে দফায় দফায় বৈঠক চলছে।

সোমবার দুপুর থেকেই অন্ধ্রের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আবহাওয়ার অবনতি হয়েছে। দমকা হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। কোথাও ভারী, কোথাও অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। তাদের খবর, পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। এর প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। চেন্নাই থেকে ১১টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। বিশাখাপত্তনমে সাময়িক ভাবে বন্ধ ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা। বিজয়ওয়াড়া থেকেও বাতিল হয়েছে ১০টি আন্তর্জাতিক উড়ান। দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে চেন্নাই ও তিরুভাল্লুরে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশার উপকূলেও সতর্কতা জারি হয়েছে। সেখানে লাল সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’দিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পুরীতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বাংলায় আপাতত মুরাসুর সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেয়নি আবহাওয়া দফতর।

Leave a comment