সোমবার দুপুরে কলেজ স্ট্রিটে বিজেপির জমায়েত ঘিরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। সেখান থেকেই ধর্মতলার দিকে রওনা দেয় মিছিল। স্লোগান ছিল, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ছিলেন সামনের সারিতে। তিনজনের কাঁধেই দেখা যায় জাতীয় পতাকা।
দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন নীতীন নবীন। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন শুভেন্দু ও শমীক। বিমানবন্দর থেকে তাঁরা একসঙ্গেই কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তার আগেই সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।
বিজেপির বক্তব্য, বিরোধীদের মিথ্যাচার ও অরাজকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই মিছিল। কলকাতার পাশাপাশি দেশের আরও কয়েকটি শহরেও পথে নেমেছে দল। হায়দরাবাদে সোমবারের মিছিলে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কাঁধেও ছিল জাতীয় পতাকা।
সেখান থেকে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের রবিবারের সমাবেশ নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণ করেন শাহ। তাঁর কটাক্ষ, ওই জমায়েতের আসল উদ্দেশ্য ‘ভোট বাঁচাও’ নয়, ‘অনুপ্রবেশকারী বাঁচাও’। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, এসআইআরের মাধ্যমে তিন কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেই কারণেই বিরোধীরা এতটা সরব।
কলেজ স্ট্রিটে যাত্রা শুরুর আগে বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বিরোধীদের অরাজকতার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা দিতেই এই মিছিল। মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মানুষ সত্যের পাশেই রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের অভিযোগ, গণতন্ত্র ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বিদেশি শক্তি অর্থ জোগাচ্ছে।
তবে বিজেপির এই পথে নামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম। বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, বিরোধীদের বিক্ষোভের প্রভাব এখনও রাজ্যে পড়েনি। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ছ’মাস হয়েছে। এই অবস্থায় কলকাতায় বিজেপির এমন মিছিলের প্রয়োজন কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে বিহারের ভাগলপুরেও একই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন নীতীন নবীন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতাদের আক্রমণ করেন তিনি। নীতীনের বক্তব্য, বিরোধীদের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করা। বিজেপির কাছে সংবিধানই সবার আগে, গণতন্ত্র রক্ষাই দলের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির জবাবে তাঁর যুক্তি, এই প্রক্রিয়ার পর তামিলনাড়ু ও কেরলেও নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বিরোধীরা জিতেছেন। তা হলে সেই সময় এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন নীতীন।

Leave a comment