শীত এলেই বাঙালির ঘুরতে যাওয়ার ধুম পড়ে। বিশেষ করে সমুদ্রের টানে অনেকেই ছুটে যান দিঘা, মন্দারমণি কিংবা তাজপুরে। কিন্তু একই জায়গায় বারবার যেতে কারই বা ভালো লাগে! তার উপর ছুটির দিনে পর্যটকদের ভিড়। তাই এবার একটু অন্যরকম জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। দিঘার কাছেই শঙ্করপুরের পাশে রয়েছে শ্রীবাস বিচ (Sribash Beach)। নিরিবিলিতে সমুদ্র উপভোগ করার জন্য এই সৈকত ঘুরে দেখতে পারেন।

দিঘা বা মন্দারমণির মতো এখানে পর্যটকদের ভিড় নেই বললেই চলে। ফলে সমুদ্রের ধারে বসে অনেকটা সময় কাটানো যায়। ঢেউয়ের শব্দ শুনতে শুনতে বালির উপর দিয়ে হাঁটা কিংবা চুপচাপ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা—এখানে সময় কাটানোর জন্য আলাদা কোনও আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে না। যারা ভিড় এড়িয়ে একটু শান্তিতে ছুটি কাটাতে চান, তাঁদের ভালো লাগতে পারে শ্রীবাস বিচ।

তবে এই সৈকতে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় জেনে রাখা দরকার। দিঘার মতো এখানে সারি সারি দোকান, খাবারের হোটেল কিংবা রেস্তরাঁ নেই। কেনাকাটার সুযোগও বিশেষ নেই। আশপাশে ছোটখাটো চায়ের দোকান মিলতে পারে। তাই যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় খাবার ও পানীয় জল সঙ্গে রাখলে সুবিধা হবে। এখানে ঘুরতে যাওয়ার আসল আকর্ষণ সমুদ্র আর তার চারপাশের নির্জন পরিবেশ।

শঙ্করপুরের নাম অনেকেই শুনেছেন। এটি পশ্চিমবঙ্গের একটি পরিচিত মৎস্যবন্দর। এখানকার বহু মানুষের জীবিকা মাছ ধরার সঙ্গে জড়িয়ে। সেই শঙ্করপুরের কাছেই রয়েছে শ্রীবাস বিচ। দিঘার এত কাছে হওয়া সত্ত্বেও সৈকতটি এখনও পর্যটকদের কাছে খুব বেশি পরিচিত হয়ে ওঠেনি। তাই চেনা পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন কোনও জায়গা ঘুরে দেখতে চাইলে এই সৈকত আপনার তালিকায় থাকতে পারে।

কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে দিঘাগামী ট্রেনে পৌঁছে যেতে হবে দিঘা। সেখান থেকে অটো, টোটো কিংবা গাড়ি ভাড়া করে শঙ্করপুরের দিকে যেতে পারবেন। শ্রীবাস বিচে যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে আগেই জেনে নেওয়া ভালো। হাতে দুদিনের ছুটি থাকলে ঘুরে আসতে পারেন এই নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত থেকে।

Leave a comment