ঝাড়গ্রামের কলাবনী জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই আসেন পর্যটকরা। লোধাশুলি থেকে শহরে ঢোকার পথে রাস্তার দু’পাশে শাল-পিয়ালের ঘন জঙ্গল। সেই সবুজের টানেই অনেকে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন ছবি তুলতে। তবে এবার থেকে পর্যটকদের জন্য থাকছে নির্দিষ্ট সেলফি পয়েন্ট। কলাবনীর জঙ্গলে সেই জায়গা তৈরির কাজ শুরু করেছে বন দফতর।
ঝাড়গ্রাম শহরের দক্ষিণ প্রান্তে এই জঙ্গল। ৫ নম্বর রাজ্য সড়কের দু’পাশে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। মাঝেমধ্যেই এই রাস্তায় বুনো হাতির দেখা মেলে। জঙ্গলে রয়েছে বিষধর সাপের ভয়ও। তা সত্ত্বেও ছবি তোলার জন্য অনেকেই রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করান। কেউ কেউ আবার জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়েন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো থাকেই, পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সামনে পড়ে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই সেলফি জোন তৈরির উদ্যোগ।
কলাবনীর জঙ্গলের পরিচিতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা সিনেমাও। সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘বাদশাহী আংটি’ ছবির শুটিং হয়েছিল এখানে। সেই শুটিংয়ের জায়গা দেখতে মাঝেমধ্যেই আসেন সিনেমাপ্রেমীরা। নতুন সেলফি জোন চালু হলে পর্যটকদের কাছে এই জায়গার আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে আশা স্থানীয়দের।
ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ লোধাশুলি থেকে ঝাড়গ্রাম শহর পর্যন্ত চারটি জায়গায় সেলফি পয়েন্ট তৈরির জন্য বন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুজো শেষ হওয়ার পর কলাবনীর জঙ্গলে কাজ শুরু হয়েছে। বিধায়কের বক্তব্য, জঙ্গলের সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে পর্যটকরা বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি দাঁড় করান। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সেই কারণেই নির্দিষ্ট জায়গায় ছবি তোলার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সেলফি জোনে থাকবে ‘ঝাড়গ্রাম’ লেখা বড় সাইনবোর্ড। পাশাপাশি বসানো হবে কৃত্রিম বন্যপ্রাণীর মডেল। পর্যটকদের জন্য কয়েকটি স্টলও তৈরি করা হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মধুসূদন কর্মকারের মতে, এই উদ্যোগে কলাবনীর প্রতি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে।
বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারপরই পর্যটকদের জন্য সেলফি জোন খুলে দেওয়া হবে। তবে পর্যটকরা যাতে নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে জঙ্গলে না ঢোকেন, তা দেখার ব্যবস্থাও করা হবে।

Leave a comment