বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে তা শক্তি বাড়াতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে আবহাওয়ার একাধিক মডেলে। সম্ভাব্য ঝড়ের প্রভাব বাংলায় পড়বে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিয়ে চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেয়নি মৌসম ভবন।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, থাইল্যান্ড উপকূল থেকে আসা ঘূর্ণাবর্তটি এখন আন্দামান সাগর এলাকায় রয়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবারের মধ্যে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর পর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আমেরিকার আবহাওয়া মডেল জিএফএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে। এই মডেলের হিসাব বলছে, ২৭ অক্টোবর রাতে ওড়িশার ভুবনেশ্বরের কাছাকাছি স্থলভাগে ঢুকতে পারে ঝড়টি।
ইউরোপের আবহাওয়া মডেল ইসিএমডব্লিউএফের পূর্বাভাস অবশ্য কিছুটা আলাদা। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর নিম্নচাপ তৈরি হয়ে ২৬ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। ২৮ অক্টোবর বিকেলে অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া উপকূলের কাছে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে সেটি।
দুই মডেলের পূর্বাভাসে ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে ফারাক থাকলেও অক্টোবরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তবে নিম্নচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ঝড় তৈরি হলে তার তীব্রতা ও গতিপথ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তালিকা অনুযায়ী তার নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। বাংলাদেশের দেওয়া এই নামের অর্থ সমুদ্র। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে নির্দিষ্ট ক্রম মেনে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। তবে নিম্নচাপ তৈরি হলেই তার নাম দেওয়া হয় না। সেটি ঘূর্ণিঝড়ের পর্যায়ে পৌঁছলে তবেই নির্ধারিত নাম ব্যবহার করা হয়।
এখন নজর বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তের গতিবিধির দিকে। নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার পর সেটি কতটা শক্তি সঞ্চয় করে এবং শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।

Leave a comment