বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ‘অর্ণব’-এর সরাসরি স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা বাংলায় না থাকলেও এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন শুরু হয়েছে। কলকাতা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই হালকা থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলছে। কখনও আবার মেঘ সরিয়ে দেখা মিলছে রোদের।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ২১ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি। ১৭.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছাকাছি ছিল এর অবস্থান। পুরীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার এবং গোপালপুরের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দূরে ছিল সিস্টেমটি।
মঙ্গলবারই নিম্নচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। বুধবার রাত অথবা বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশার মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝামাঝি কোনও এলাকা দিয়ে সিস্টেমটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের অনুমান। সরাসরি বাংলায় আঘাত না করলেও এর প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির দাপট বেশি হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বুধবারও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় স্বস্তি ফিরছে না। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতাতেও মঙ্গলবার ও বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। সঙ্গে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রও ক্রমশ উত্তাল হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও। মঙ্গলবার দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। একইসঙ্গে সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a comment